উপশমের কথা
কৌশিক চক্রবর্ত্তী
মাঝে মাঝে জীবন অনেক পরীক্ষার মধ্যে পড়ে। আর সেই মুহূর্তটা উতরে যাওয়া কিংবা না যাওয়ার দোলাচলে সুতোয় দাঁড়িয়ে থাকে প্রতিটি দিন। আমরা কখন যে কার মধ্যে নিজেকেই হারিয়ে ফেলি, সেটাই যেন বুঝে ওঠা হয় না। আসলে মানুষ একা না সামাজিক, সেই বিবাদ চিরাচরিত। কিন্তু কারও উপর মানসিক নির্ভরশীল হয়ে যাওয়া যেন এক অশনি সংকেত। পথচলার দিনগুলো হঠাৎ করে বেঁকে গেলে, সময় বারবার কৈফিয়ত চায়। আকস্মিক হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়া মানুষের যন্ত্রণা উপশমের ব্যবস্থা হয় ঠিকই, কিন্তু পরিস্থিতি তাকে নাগরিক জঞ্জালে পরিণত করে। আমরা জীবনের প্রথম দিন থেকে হেঁটে যাই সাবলীল। হয়ত তাকিয়ে দেখি না জমির কাঠিন্য। কখন তার আশেপাশে ভিড় করে নক্ষত্রমণ্ডলী৷ তারা যেন উপহাস করে বলে, কোন লজ্জায় তুমি আলো চেয়েছিলে হাসিমুখে? জীবনে নির্ভরশীল হওয়ার আগে চেয়ে দেখনি আকাশের দিকে? আকাশের কি কোন শেষ আছে? তবে তুমি কিকরে বাঁধন চাইলে এতো অনায়াসে? আমিও চেয়ে থাকি ফ্যালফ্যাল করে। একলা। তাকেই হয়ত জোর করে বোঝাতে যাই ভেতরের কথাগুলো। হয়ত বলতে যাই, পৃথিবীকে ভালোবেসে নির্ভরশীল হয়েছি, তাই সীমাহীনতায় উড়তে পারছি না কোনোভাবেই। কিন্তু নিজের শহরকেও কেন বারবার নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হয়? তবে কি আমি সত্যিই গড়ে তুলতে পারিনি একটা সীমান্তহীন উদ্বাস্তু ঘর? বিশ্বাসও তো করতে চেয়েছি সেই বাসস্থানে। গ্রহ ও নক্ষত্রের অবস্থানে মেপে দেখেছি আনুপাতিক দূরত্ব। কিন্তু গ্রহের উজ্জ্বল আলোকবর্তিকায় কেন আজও নক্ষত্রের স্পষ্ট ছাপ? এই উত্তর কারও কি জানা আছে? হয়ত নেই৷ আমারও নেই। তাই আমি কোনোদিন স্পষ্ট আঁকতে পারিনি আমার প্রতিকৃতি। আর যতবার কারও চোখে তাকিয়ে খুঁজতে চেয়েছি সেই ছবি, গ্রহরা ভিড় করেছে। কেড়ে নিয়েছে পরস্মৈপদী আলো। তখনও আবার ছায়াটুকু হাতড়ে আরও চাঁদের উপর নির্ভরশীল হয়ে গেছি আমি। জানি না আর কতবার রাত্রিকে ফুরিয়ে যেতে দেখব। আর দিনের আলোয় বারবার হারিয়ে ফেলব স্থিতিশীল নক্ষত্রমণ্ডলী।

