অণুগল্পঃ লেবু লঙ্কা- অর্জুন

দরজার সামনে লেবু লঙ্কা ঝুলিয়েছে যাতে নজর না লাগে। সুখটাকে যত ধরে রাখার চেষ্টা করে,সে ততই পাঁকাল মাছের মত পিছলে যায়।দুঃখটা বড় নিজের বারবার ফিরে আসে।
নিরুপমা কুসস্কার মানতো না তবে আজকাল বড় সেকেলে হয়ে যাচ্ছে।ঠাকুর বাড়ি যায়,তাবিজ পড়ে,আমাবস্যা পূর্ণিমা একাদশীর উপবাস করে।নিরুপমা বড্ড ভয় পায়,হারিয়ে ফেলার ভয়।কপালে যে সুখ সয় না তার।
নিখিল কিছু দিন আগে ওর পার্সোনাল অ্যাসিস্টেনের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ে। কোনো মতে সেখান থেকে বার করে এনেছে।
ওর এক বান্ধবী বলেছিল চরিত্রহীন মেয়েটি নাকি নিখিলকে কিছু খাইয়েছিল, মানে ঐই বশীকরণ টাইপের কিছু একটা।ঠাকুর বাড়িতেও তেমনি বলেছে,
কিসের যেন শিকড় আছে নিখিলের পেটে। ঠাকুর বাড়ি থেকে দেওয়া মাদুলী আর মন্ত্র পড়া জল খেয়ে নিখিলের মতি ফেরে।নষ্ট মেয়েটাকে তাড়িয়ে দিয়েছে নিখিল,এখন এক মাঝ বয়সী মহিলা ওর পি.এ।বিবাহিত একটি সন্তানও নাকি আছে,তাই নিরুপমার অনেক চিন্তা কমেছে।
তাছাড়া ঠাকুরবাড়ি,লেবুলঙ্কা,উপোস আপোস তো রয়েছে। আসলে আগের পিএ টা নিখিলের সাথে ঘনিষ্ঠ হতে আর রাজি হচ্ছিল না। বারবার অফিস ট্যুরে যেতে যেতে ক্লান্ত হয়ে পরেছিল,তাই চাকরি ছাড়তে হয়। বিবাহিত সহযোগী বেশ সহযোগিতা করছে। আরে বাবা অভিজ্ঞতার তো একটা দাম আছে নাকি?তাই নিরুপমার সংসারের এখন বেশ সুখ বিরাজ করছে।
যাই বলুন লেবু লঙ্কার কিন্তু গুন আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *