গুচ্ছ কবিতাঃ পলাশ দাস
সিক্ত
ভেজা ডালের মতো সিক্ততায় ভিজে আছে সকালের রোদ
এদিক-ওদিক করে ঘড়ির কাঁটা পার করে দিতে চাইছি
দুপুরের বিরতি আশ্রমে
আমরা ঠিক কোথায় যেন কোথায় থমকে যেতে পারলেই
আমরা ঠিক কোথায় যেন হারিয়ে যেতে পারলেই খুশি থাকছি
বসন্তের মতো স্নিগ্ধ আস্ফালনে
শন শন হাওয়া ছড়িয়ে দিয়ে একটা রাতকে
ধুলো ঝেড়ে গায়ের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছি
আর কিছুই দৃষ্টিগোচর নয় বলে
একটা নেমপ্লেটের মতো কিছু
জানলায় ঝুলিয়ে দিয়েছি
অগত্যা পথচারী নিয়ম মানছে ভেবেই
রাতকে ভেঙে ভেঙে ছড়িয়ে দিচ্ছি আরেকটা রাতের গভীরে
নীলবনলতা
অন্ধকার ভাঙতে চেয়েছি আলো হাতে তীব্র ঝাঁকুনিতে নীলবনলতার প্রত্যেক অবসর ভেঙে দিতে চেয়েছি
একটা সকালের নীচ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে জলের পিঠ ছুঁয়ে বাতাসকে উল্টে-পাল্টে দেখে সদ্য ঘুম থেকে উঠে
পড়া পাখির প্রথম সন্তানের উচ্ছ্বাসের ভিতর একটা সূর্যকে নেমে আসতে দেখেছি আর সেই দেখতে
দেখতেই ওভার ব্রিজের ওপর ঘুমিয়ে পড়া গাড়ির আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে দেখে নিতে
চেয়েছি নিজের ছায়াকে ছায়া কতটা পায়ের কাছে এলে আমি খুঁজে পাব নিজেকে?
আমাদের প্রত্যেক ঘুম ভেঙে ওঠার সময় তীব্র যান্ত্রিক ঘষঘষে বেদনা জেগে ওঠে নীলবনলতার পাশে বসে
দেখেছি ওদের তেমন কোনো যান্ত্রিক উচ্ছ্বাস নেই জেগে ওঠার ঐশ্বরিক মুহূর্তে
পুতুল
ধুলো মাটি জল
অবশেষে কাদা
পুতুল গড়তে গড়তে
দুহাতে খুব জাপটে মেখে আছে
আঙুলের ভাঁজে ভাঁজে
হাতের প্রত্যেক রেখা তার নরম ছুঁয়ে নিচ্ছে
ঠোঁটের নিভৃত আলিঙ্গনে
পুতুল দেহজুড়ে শ্বাস নেমে আসছে
তিনভাগ শরীর নিয়ে
মানুষ যখন নদী হতে পারে তখন দু-হাতে জড়িয়ে থাকা মাটি দু-পায়ের পাশে রেখে ফিরে চায় বনানীর দিকে
আকাশের বিমূর্ত শব ভেসে ওঠে বনানীর তীক্ষ্ম নীলে কয়েকটা বকের ডানায় যে বিদ্যুত সেই বিদ্যুত খেলে
যায় সহস্র ধানে চারপাশের সাজানো আসবাবের গন্ধ সে খুঁজে পায় না পিঁপড়ের মতো তিনভাগ শরীর নিয়ে
সক্রিয় অথচ অদৃশ্যমান তরঙ্গের বিক্রিয়াশীল রাসায়নিক ছড়িয়ে দেয় রাতের বাতাসে
স্নানের গভীরে
নদীর ধারে দাঁড়িয়ে দূর থেকে শহরকে দেখছিলাম
দেখছিলাম সে আবার নতুন করে মাথা তোলে কি না
স্নান থেকে উঠে
দূর থেকে চোখ যেখানে থামল
সেখানে
দুটো ডোঙা পাশাপাশি দড়ি দিয়ে বাঁধা
তারা স্রোতের নিজস্ব ইশারার সাথে
খুব খুব মানিয়ে চলার চেষ্টায় আছে
কখনও এদিকে কখনও ওদিকে হেলে পড়ছে
আর সেই ডোঙা দুটোর দু-প্রান্তে বসে আছে আরেক ইশারাধর
তারা একে অপরের দিকে দেখছে না
তারা জলের দিকে দিখছে না
তারা আকাশকের দিকে দেখছে না
তারা শহরকে দেখছে না
এই না দেখার ভিড়ের সুযোগে দড়ি ছিড়ে গেল
আর তারা শহরের খোঁজ করতে করতে
যে যার দিকে হারিয়ে গেল
শহর এখনও মাথা নীচু করে আছে স্নানের গভীরে