ঘূর্ণি থেকে ফিরে
চিরশ্রী দেবনাথ
এই যে বিস্তৃত মনু নদীর অববাহিকা
ঘোলা জলের অন্তর্লীন স্রোতধারা,
পাহাড় ধুয়ে আসা সেগুন, শিমুলের
শিকড়স্নাত জল, নিশিন্দা আর কালো
ওঝা গাছ, দু একটি শ্মশানঘাট,
পোড়া কাঠ, মাটির কলসী, কাল রাতের
ঘন বর্ষা নিয়ে গেছে লোভ আর দংশনে মৃত
দেহের ছাই, তারে মেলে দেওয়া হলুদ লাল
শাড়ি, বাড়ির উঠোন ঘেঁষে চলে যাওয়া
মাটির রাস্তা, যেতে যেতে শশা, কুমড়ো,
গন্ধরাজ লেবু, কাঁঠাল কিনে নেওয়া,
শ্মশান দেখে ফেরার সময়, সংসারের
কথা ভাবা, চোরা স্রোত, জলের ঘূর্ণি
দেখতে দেখতে আবার স্থবিরতায় আসা,
পায়ের পাতায় মোরগের নরম পালক,
ভাট ফুলের ঝোপের কাছে দুটো বক
নির্নিমেষ আর তাদের গলার কাছে
পিছলে যাচ্ছে মেঘভাঙা রোদ, কেমন
যেন মিলেমিশে আছি, হয়তো আমার
আর ভাবার কিছু নেই, তর্ক মরে গেলে
মানুষ এমনই খোলা হাওয়ার মতো হয়ে যায়

