চিন্তার বিষয়
তাপস শেঠ
মানুষ হাতে স্বাধীন, পায়ে স্বাধীন, দৃষ্টিপাতে স্বাধীন, বাক্যবাণ নিক্ষেপণে স্বাধীন। তবে সবচেয়ে স্বাধীন সে নিভৃত কুঠুরিতে যখন থাকে। হয়েছে কী সেদিন, বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা হাঁটছিলাম। একটু এগোলেই সবজি-মাছের বাজার। একজনের কাছে বেশ ভিড় জমেছে দেখে এগিয়ে গেলাম। সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই দোকানি আমার হাতে একটা দেবীমূর্তি ধরিয়ে দিয়ে বলল, “বাবু পঞ্চাশ টাকা”। আমি ‘থ’ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি দেখে সে নিজেই আমার পকেটে হাত ঢুকিয়ে টাকা বের করে নিল। কী করা উচিত ভাবতে ভাবতে হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি মা সরস্বতী, অথচ আলু, পটল, পেঁয়াজ, আদা, টমেটো কতকিছু কেনার ছিল। কিন্তু এরপর যা ঘটল মাথা আর ঠিক রাখা গেলনা। যার সামনে গিয়েই দাঁড়াচ্ছি অদ্ভুতকাণ্ড ঘটছে। দোকানিরা সেই একই কায়দায় একটা করে দেবীমূর্তি হাতে ধরিয়ে দিয়ে জামার পকেট থেকে নিজেরাই পঞ্চাশ টাকা করে বের করে নিচ্ছে। কীসব ঘটছে কিছুতেই কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। পাশে একজায়গায় সরে এসে ব্যাগের ভেতর দেখলাম পাঁচখানা মূর্তি জমা হয়েছে আর পকেটে রয়েছে আড়াইশো টাকা। মাথা ঠাণ্ডা করব বলে ওখানেই কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। খেয়াল হলো, আড়াইশো টাকায় মাছ তো কেনা যেতে পারে। কিন্তু এবারও যা অদ্ভুতকাণ্ড ঘটল মাথাটা একেবারে ফাঁকা হয়ে গেল। মাছের বাজারে ঢুকতে গিয়ে দেখি, বিশাল শরীর নিয়ে একটা ষাড় দাঁড়িয়ে। এগোতে গেলেই শিং দোলাচ্ছে, অথচ আশ্চর্যের ব্যাপার, অন্য লোকজন অবলীলায় যাচ্ছে-আসছে। তিনবার চেষ্টা করার পর অন্য এক ভয় শুরু হলো। ফাঁকা হয়ে আসা মাথাতে মনে হচ্ছিল, আমার মাথার ঠিক আছে তো! এই সবের মধ্যে আবার এমনও মনে হলো, কেউ একটা হাত ধরে টানছে, আর বলছে, “অনেক বেলা হয়ে গেছে, বাড়ি যাবেনা?”


বাঃ।
বেশ ভাল লাগল।