একজন অরণ্য-মানব (যাদব পায়েঙ’কে )
দয়াময় পোদ্দার
বিবর্তন পর্ব :
জেগে ওঠা চর নিয়ে মানুষেরা
চিরকাল লড়াই করেছে।
লুটের হাওয়া, পলিমাটি, ভরসা আর আকাশ-
দখলনামার উন্মত্তে লাশ পড়েছে দুচার-দশটা।
রক্তের নেশায় শকুনের হল্লা, তুলেছে-
ঢাল আর সড়কিতে শান;
মানুষেরা নিজের হিংসা দোষে একা!
সেই শূন্যের মিছিল থেকে কোন এক উল্কা
খসে গেছে আগুনের জেদ বুকে নিয়ে…
চিরন্তন পর্ব :
তার আঙুলের মাথায় প্রজাপতি ত্রিতাল ছন্দে নাচে, আর
দগ্ধ একজীবনে শান্ত ছায়া নামে, সুশীতল বায়ু-প্রবাহ,
এই কুরুক্ষেত্রে যুযুধান পান্ডব আর কৌরব একপক্ষে ছিল।
শৈশবের চেনা সেইসব গাঁও থেকে দুটো বটের চারা
দুটো বাঁশের বোগ, জাম, ভালোবাসা, শিরিষের চারা এনে
ক্লাশ টেন, মাটি খুঁড়ে পুঁতে জল দিয়েছে- পাঠশালা পাঠে।
কত কত ভন্ডরা অভিনয় করে গেছে যুদ্ধের, নিজেকে বেঁচেছেও
কথা উঠলে পুঁটি মাছের পেট দেখিয়ে তিমি মাছ গিলেছে।
সেসবের থেকে বহুদূরে একটুকরো পৃথিবী- অন্ধকারে দীপ্ত আলো
লাল পিঁপড়ে থেকে একশৃঙ্গ গন্ডার। বাঘ আর হাতিদের মহল্লায়
একজন অরণ্য-মানব থাকে। তপস্যার মত মগ্ন একা
সাজিয়ে তুলেছে- বনানী, পাখির কুজন, ঋতুচক্র, আর
কুরুক্ষেত্র এই পৃথিবীর ঋণভার!


ভীষণ ভাল লাগল কবিতাটি….
দিদিভাই, আপনার মতামত পেয়ে ভালো লাগছে।