নয় ছয়
ভূমিকা গোস্বামী
–আচ্ছা কী ব্যাপার বলুন তো , দিন পনেরো যাবৎ সারাদিন অচেনা অজানা লোকের কল আসতেই থাকে। আমার তো কাজ কর্ম আছে , না কি ? অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে বলল মলি।
— না মানে, রাগ করবেন না ম্যাডাম, আপনার আর আমার প্রায় সেম ফোন নাম্বার তো , শুধু লাস্ট ডিজিটটা আলাদা। আপনার সিক্স, আমার নাইন। তাই বোধহয় ভুল করে, , ,
মোহিতের কথা শেষ করতে না দিয়ে অপর প্রান্ত থেকে মলির চিৎকার ভেসে আসে।
— কি বলছেন কি ? ভুল ? জানেন আমাকে কী কী ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে এরমধ্যে ? আজ একজন বয়স্কা মহিলা আবার বললেন। — কী ব্যাপার ! মোহিতের ফোন তোমার কাছে ? তোমরা আজকাল একসাথে থাকছো নাকি ?
ভাবতে পারছেন ? ডিসগাস্টিং!
–সব বুঝতে পারছি ম্যাডাম। কিন্তু কী করবো বলুন। যা হবার হয়ে গেছে। আর হবে না। সরি ভেরি সরি ফর দ্যাট।
তারপর দিন রাতে ডিনারের পর মলি পড়ার টেবিলে পড়তে বসেছে। রোজই আড়াইটে তিনটে পর্যন্ত পড়াশোনা করে ও। এম-এ পরীক্ষার আর মাস দুয়েক বাকি। এই সময়টায় একঘন্টা পড়লেও বেশ সলিড পড়া হয় ও দেখেছে। হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠতে বেশ বিরক্ত হল মলি। মনেমনে বলল–ইস্ ফোনটা বন্ধ করা উচিত ছিল।
মোহিতের ফোনটা কেটে দিয়ে আবার পড়ায় মন দিল ও। কিছুক্ষণ পরে দেখল মেসেঞ্জারে একটা মেসেজ এসেছে–আমাকে তো সেদিন খুব ঝাড়লেন ম্যাডাম। আজ তো বেশ কয়েকটা মেসেজ আপনার বন্ধুরা ভুল করে আমাকে পাঠিয়েছে। আমি কিন্তু ভুলটা বুঝতে ভুল করিনি আপনার মতো। যাই হোক, মেসেজ গুলো আপনার হোয়াটস আপে ফরোয়ার্ড করে দিলাম।
আজ বেশ কয়েক বছর পর সেদিনের কথাগুলো মনে পড়লে হাসি পায় ওর। যার ফোন এলে একদিন বিরক্ত হোত। এখন রাত জেগে বসে থাকে তার ফোনের আশায়। মোহিত অফিস থেকে ফিরলে ফোন করে । তারপর, কথায় কথায় কখন ভোর হয়ে যায় মলি বুঝতেই পারে না। মোহিত এক্সিকিউটিভ ইন্জিনিয়ার। মলি মেয়েদের কলেজের প্রফেসর।
কাছাকাছি ফোন নাম্বার হলেও কাছাকাছি এখনও থাকা হয় নি ওদের। খুব শিগগির ওরা কাছাকাছি হতে চলেছে সামনের মাঘ মাসে ।


ভালো লাগলো
খুব ভালো লাগল ।