মুক্তগদ্যঃ শতভিষা নক্ষত্রে-সোমা পালিত ঘোষ

বসন্ত একটা ঋতুর নাম। স্কুলের রচনা খাতায় লিখেছিলাম। একটা ভরপুর ঋতু কেমন করে গোটা অরণ্য হয়ে যায়। আমার আকাশনীল শাড়ির আঁচল জড়ালাম, কদম মাখলাম… তবু, এই যে নদী, পথ, মেঘ কত
যাতায়াত শুধু আমারই কোথাও যাওয়া হলো না। গোটা আকাশ দিয়ে ঢাকা একটা ছোট্ট ছাদ। শুনছো, তানপুরা বাজিয়ে গান গাইছে ছোট্ট মেয়ে। পায়ে নুপুর গাছের মতো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে, হাঁটু জল পেরিয়ে কিভাবে যে এলাম…
জরিমানায় ছোট হয়ে আসে নদীজল। খুব ভোরে জলটুকু গড়িয়ে, পিঁড়ে পেতে কপূর্রের মতো উবে যায় জ্যোৎস্না।
ছদ্মনামের কারা যেন গল্প সাজিয়েছিল। রাত জাগা সৈনিকের চোখ – কংশবধ যাত্রাপালার পার্শ্বচরিত্ররা সাজঘরে মুখোশ খোলে। সুফি সাধকের সুরে বিগ্ৰহ হীন হয়ে বসে আছে যে মন্দির চাতাল দপদপ আলোর নীচে নির্বাক শীতকাল আর একাকী সূর্য।
নৌপথে ঢুলুঢুলু ছায়ার পাশে কুসুমকলি চোখ ঢাকে আলতাপাতায়‌ পানপাতার ঋণ শোধ হয় না একজন্মে।তবু, চোখের ইশারায় জেগে বসে গোটা অমাবস্যা। বৈদেহী ইশারায় ফুরিয়ে আসে প্রদীপের শিখা, বাল্মিকীর কুটির, আর ওই সোনার হরিণ। ঈশ্বর তখন ভক্ত হয়ে সুদর্শন উড়িয়ে আকাশপথে। নির্বাসনের অর্থ কে আর বলতে পেরেছে বলো। অন্নর চেয়ে ঈশ্বর বড় নয়, এই ভাবনায় উদ্বাস্তু শিবির হাত তুলে দাঁড়িয়ে। অগোছালো শাড়ি,আর জলহীন চুলে দুপুর মাখানো ক্ষোভ ঘাম হয়ে ঝরছে অবিরাম নিস্তারহীন হয়ে তবে আর কি এসো একযোগে জ্বালানির খোঁজ করি….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *