ফোন
ভ্যাপসা গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি
বাড়ির পরিবেশটাকে একটু হাল্কা করে দিল
আজ দুদিন ছেলেটার কোনও খবর নেই…
ফোনের দিকে তাকিয়ে দুটো দিন কেটে গেছে….
মা অস্ফুট স্বরে বলে ‘এবার ফোন আসবে’
প্রকৃতি ঠান্ডা হয়েছে….
ও একটু…
বাইরে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে….
কানে হাত দে খোকা….
বলেই ব্যালকনি তে দাঁড়ানো খোকার বাবার দিকে চোখ চলে যায়….
দুদিন আগেই বাপ ছেলের খুনসুটিতে
বাড়িতে কাক চিল বসার উপায় ছিল না…
আজ—
বাড়িটা যেন শ্মশানপুরী।
বৃষ্টি ধরে এসেছে
বিলম্বিত লয়ে তার রেশ
কান পাতলে শোনা যাচ্ছে
সামনের জামরুল গাছটাতে….
দুদিনে খোকার বাবা কেমন বৃদ্ধ হয়ে গেল……
বন্ধুর সাথে সমুদ্দুর দেখবে….
মা আস্তে আস্তে বলে,
‘ছেলে বড় হয়েছে
আর খোকাটি নেই
এবার ছাড়ো ‘
– আমারা তো যাবো পুজোর সময়….
বেরিয়ে গেল—
“ফোন করিস খোকা”…..
দুদিন কোনও খবর নেই.
রাত গাঢ় হল…..
মোড়ের মাথায় হলুদ স্ট্রিট লাইটের সামনে
-পুলিশভ্যান এসে দাঁড়াল
দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজ….
এটা অর্চিষ্মান বাসুর বাড়ি?
হ্যাঁ বলুন,আমার ছেলের….
গলা দিয়ে গরম লাভা যেন বেরিয়ে আসছে….
শব্দ বেরচ্ছে না-
গোঁঙানির মত শোনাচ্ছে
‘ওর কোনো খবর জানেন?’
একটা গাড়ি হাইওয়েতে খুব খারাপ ভাবে–
কাউকে চেনা যাছে না….
ই কার্ড দেখে —
র্যাশ ডাইভিং…..
বৃষ্টির পর গুমোট ভাবটা আরো বাড়লো
ফোন এর ঘর থেকে ভেসে এলো–
‘কে এলো এতো রাতে
খোকা ফিরলি
ফোন করলি না কেন খোকা
তোর বাবা তো….!!!!….


বড্ড মন কেমন করা লেখা।
এভাবে কত বাবা মায়ের বুক খালি হয়ে যায়।
মনে দাগ কেটে গেল লেখাটা।
বেশ ভালো হয়েছে।
জীবন কথা, বড় কঠিন বাস্তব। হৃদয়ে মোচড় দেয়।