কবিতাঃ অরূপরতন হালদারের দুটি কবিতা

অরূপরতন হালদারের দুটি কবিতা

হে মাধব

জলের মধ্যে অন্ধকার নিষ্পন্ন হতে হতে দেখে
ঘাস নিভে আসে চিতল হরিণের শরীরে
অবদমন কোনো স্থবির সন্ধ্যার যেন
সূর্যের বহু ফাঁদ
তোমার চক্রগুলো সেজে ওঠে
সারেঙ্গীর নীলাভ শিরার মতো
পানকৌড়ির জাঁকালো দেহ থেকে
আমার রাত্রি ফিরে আসে যে আচ্ছন্ন জালিকায়
সেইখানে তুমি দেখ কৃতার্থ ছুরিটিকে, নগ্ন
নৌকোর এ পাটাতন ক্লান্ত
হে মাধব, তোমার শরীরে যে তারাটি
কৃষ্ণগহ্বর হয়ে গেছে কাল
দেখে জগৎ শূন্য আজ
কেবল পারাপার এক ক্ষুদ্র অস্থিতি
শব্দের অস্পষ্ট আলোয়
বাষ্পলীন পৃথিবীর ভেতর তোমার দৃষ্টি
আহত বকের মতো পড়ে আছে

ভয়

সময়ের মধ্যে আরো সময়ের দেহ পড়ে আছে
মরা মুখে মধু পড়ে
ক্ষরিত পাগল যে ঈশ্বরীর সঙ্গে ছলাকলা করে
তার নাভিটিতে ঘর, ঘরের প্রমাদ জ্বলে
বিষণ্ণ ভ্রমরের মতো যে বালিকার হৃদয়ের কাছে
তার শান্তিপর্ব উড়ে গেছে পিপুলের শাখাটিতে
তার গা ময় ধুলো
ধুলোর ব্রহ্মাণ্ড ফেটে যায় যে মদে
তা আর পানযোগ্য নয় পৃথিবীর
তুলারাশি নিভে যায়
ভয় হয়, আমারও চোখের ভেতর একদিন
জলে-ডোবা সিঁড়িগুলো লুপ্ত হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *